সুস্থ থাকা
সুস্থ থাকা

সুস্থ থাকার জন্য ৮ টি উপায়

সুস্থ থাকতে চায় না এমন মানুষ হয়তো খুজে পাওয়া ও দুষ্কর। জীবনে সুস্থ থাকার ইচ্ছা আমাদের সবার মধ্যেই থাকে। ইচ্ছে থাকলেই সুস্থ হয়ে উঠা যায়না। কারন প্রতিদিনের কাজের চাপ বা প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততার জন্য নিজের স্বাস্থ্যের উপর যত্ন নেওয়া কঠিন হয়ে দাড়ায়। জীবনে সুস্থ থাকার গুরুত্ব যে কতটুকু তা শুধুমাত্র অসুস্থ থাকলেই বুঝা সম্ভব। শরীর যদি সুস্থ না থাকে তাহলে আপনার কোন কিছুই ভালো লাগবে না। সবকিছু শুধু অস্থির অস্থির লাগবে। আপনি কোন কাজই সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন না। তাই জীবনে চলতে গেলে সুস্থ থাকার কোন বিকল্প নেই।

আপনি একটু চেষ্টা করলে খুব সহজেই সুস্থ থাকতে পারবেন। সুস্থ থাকার জন্য তেমন কিছু করতে হয়না। শুধু কিছু নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকা সম্ভব। নিচে সুস্থ থাকার সেই নিয়ম গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

১.পর্যাপ্ত ঘুম

সুস্থ থাকার জন্য সবার আগে যেই কাজটি করতে হবে তা হল পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম একটি মানুষের শরীরের জন্য অনেক দরকার। তাই আপনাকে অবশ্যই দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। কারন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আমরা কোন কাজ সঠিক ভাবে করতে পারি না। কোন কাজ করতে গেলে হঠাৎ চোখে ঘুম চলে আসে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আমাদের চোখের নিচে কালো দাগ পরে যায়। তাছাড়া আমাদের শরীর অনেক ভারী ভারী মনে হয়। পর্যাপ্ত পরিমানে না ঘুমালে আমাদের নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়ে থাকে। চোখের সমস্যা দেখা দেয়।

আরো পড়ুনঃ  শীতের দিনে ত্বকের যত্ন কিভাবে নিবেন?

২. সঠিক সময়ে ঘুমানো

আমাদের শুধু পর্যাপ্ত ঘুমালেই হবে না। পর্যাপ্ত ঘুমানোর পাশাপাশি সময় মতো ঘুমিয়ে যেতে হবে এবং ঘুম থেকে উঠতে হবে।সময় মত ঘুম শরীর সুস্থ থাকার জন্য খুব দরকার। বর্তমানে আমরা রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ব্যাবহার করে থাকি, এটি ব্যাবহার করে আমরা ঘুমানোর অনেক সময় নষ্ট করে ফেলছি। কোনদিন আগে ঘুমিয়ে গেলে তো পরের দিন আমরা মোবাইল ব্যাবহার করে অনেক রাত জেগে পরে ঘুমাচ্ছি। যদি আমরা নিয়মিত দেরি করে ঘুমাই তাহলে শারীরিক ও মানসিক ভাবে আমরা অসুস্থ হয়ে পরতে পারি। তাই আমাদের এই বধ অভ্যাস পরিত্যাগ করে প্রত্যেকদিন সময় মত ঘুমাতে হবে।

৩. সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠা

সঠিক সময় ঘুমানোর পাশাপাশি আমাদের সঠিক সময় ঘুম থেকে উঠতে হবে। রাতে দেরি করে ঘুমানোর কারনে অনেকেই আমরা সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠি। যা সুস্থ থাকার পথে বড় বাধা হয়ে দাড়ায়। তাই আমাদের সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে।বিভিন্ন সময় না উঠে একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে উঠতে হবে।সকাল ৬-৭ তার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হবে।

৪. ফাস্ট ফুড এবং তৈলাক্ত খাবার গ্রহন কমাতে হবে

যারা অধিক পরিমানে ফাস্ট ফুড এবং তৈলাক্ত খাবার তাদের শরীরে অনেক ক্ষতিকর প্রভাব পরে। তাই আমরা সবাই নিজেদের স্বস্থ্যের কথা চিন্তা করে ফাস্ট ফুড এবং তৈলাক্ত খাবার খাওয়া কমাতে হবে। ফাস্ট ফুড এবং তৈলাক্ত খাবার তৈরিতে যেই তেল ব্যাবহার করা হয় সেগুলো উন্নত মানের না। তাই আমাদের যত বেশি সম্ভব বাড়িতে তিরি খাবার খেতে হবে। এই ধরনের খাবার তৈরিতে অনেক বাঁশি ও আগের তেল,মশলা ব্যাবহার করা হয়। যেগুলো খেয়ে আমাদের নানা রকম স্বস্থ্য ঝুকি দেখা দেয়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে এই ধরনের খাবার পরিত্যাগ না করার কোন বিকল্প নেই।

আরো পড়ুনঃ  শীতের দিনে হাত-পায়ের যত্ন নেয়ার কৌশল!

৫. পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করা

আমরা সবাই জানি পানির আরেক নাম জিবন। তাই আমাদের সব দিক থেকে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করতে হবে। আমাদের শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য পানি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। একজন মানুষের প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি পান করা সবথেকে বেশি উপকার। এতে আমাদের শরীরের অপ্রয়োজনীয় toxins গুলো বের হয়ে যায়। তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে ওঠে পানি পান করলে কিডনি ভালো থাকে।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। মুখের স্কিন ও মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাই আমাদের সুস্থ থাকতে পানি পান করা উচিত।

৬. খারাপ অভ্যাস পরিত্যাগ করা

আমরা অনেক সময় বিভিন্ন খারাপ কাজের সাথে লিপ্ত হয়ে পরি। যেমন ধূমপান করা, মদ্যপান করা ইত্যাদি। এই ধরনের নেশা আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি করে। এমন কি ক্যান্সারের মত ভয়াবহ রোগ পর্যন্ত হতে পারে। তাই সুস্থ থাকার জন্য এই ধরনের নেশা পান করা থেকে দূরে থাকতে হবে।

৭. ব্যায়াম করতে হবে

শারীরিক ও মানসিক ভাবে ফিট থাকার জন্য প্রাত্যহিক জীবনে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। যদি আমরা নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি তাহলে অনেক সমস্যা থেকে দূরে থাকবো। নিয়মিত ব্যায়ামের কারনে আমাদের হার্ট অ্যাটাক এর ভয় কমে যায় ,ওজন নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়,রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন,শারিরিক ভাবে শক্তিশালি করতে সাহায্য করে। তাই সুস্থ থাকতে আমাদের দৈনিক ২০ থেকে ৩০ মিনিট করে হলেও ব্যায়াম করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ  মোটা হওয়ার সহজ ৫টি কার্যকারি উপায়

৮. পুষ্টিকর খাবার গ্রহন

আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও প্রোটিন এর প্রয়োজন। আর এই ধরনের উপাদান গুলো পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে উপস্থিত থাকে। তাই আমাদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অনেক জরুরী। তাই আমাদের বেশি করে শাক-সবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, দুধ,মাছ এই ধরনের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আমরা যত বেশি পুষ্টিকর খাবার খাবো, শরীর তত বেশি পুষ্টি উপাদান পাবে। আর শরীর পুষ্টি পেলেই আমরা সুস্থ থাকবো।

এই নিয়ম গুলো অবলম্বন করা আমাদের অত্যন্ত জরুরী। কারন এই নিয়ম গুলো মেনে চললেই আমরা প্রাত্যহিক জীবনে সুস্থ থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *