ভালোবাসার গল্প

তোমার প্রেমে আমি পাগল: ভালোবাসার গল্প পর্ব-১

তোমার প্রেমে আমি পাগল। পাগল হয়ে বাসি আমি সবার দরকার তোমার প্রেমে পড়েছি আমি অধম হে। ভালোবাসার অন্যতম একটি গল্প। আজকের গল্পটির নাম দেয়া হয়েছে “ভালোবাসার গল্প”এটার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই শুধুমাত্র কাল্পনিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে তবে বর্তমান সময় বাস্তবতার সাথে মিলাতে কোনোরকম দ্বিধাবোধ করা যেতে পারে না এই গল্পের মধ্যে যে কাহিনী রয়েছে সেগুলো বাস্তবতার সাথে অনেকটাই মিলে যায়।

আমরা সবাই জানি যে ভালোবাসা শরীর গায়ের রঙ দেখে হয় না এটা কেবলমাত্র মনের সাথে আমার তো অনেকেই আমরা এই জিনিসটাকে প্রধান নদী এ থাকি এবং সত্যিকার অর্থে ভালোবাসার গল্প গুলো সত্যিই অসাধারণ হয়ে থাকে মানুষের মন ছুয়ে নাই প্রত্যেকটা ভালোবাসার গল্প মানুষকে অনেক বেশি আনন্দ দিয়ে থাকে। প্রত্যেকটা মানুষের ভালোবাসার গল্প রয়েছে তবে সেটা হয়তো কেউ বলতে চাই আবার কেউ বলতে চায় না। মানুষের ভালোবাসা গুলো সত্যিকারে অর্থে অনেক বেশি মনকাড়া হয়ে থাকে কেউ ভালোবাসা টাকে ভুলে যেতে চায় সহজেই আবার কেউ ভুলে যেতে চায় না কিন্তু ভুলে যাওয়ার পেছনে সত্যিকার অর্থে অনেক বড় কারণ থাকে সে কারণগুলোর একটা কারণ আজকে আপনার সাথে শেয়ার করব।

আমার নাম সাইফুল ইসলাম, আমি বর্তমানে BBA কমপ্লিট করেছে যদিও আমি এখনও বেকার চাকরির সন্ধানে প্রতিনিয়ত আমি ব্যস্ত হয়ে আছি কিন্তু কোনভাবেই চাকরি মিলাতে পারছিনা আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা ছেলে বাবার চাকরির বেতন দিয়ে কোন ভাবে সংসার চলে যাচ্ছে তাও আমাদের সংসার অনেক ভাল যাচ্ছে এমন না মোটামুটি খাওয়া-দাওয়া শেষে চলে যাচ্ছে আর কি এমন একটা বিষয়। এইটা কার বাজারে কেউ আমাকে এমনি তে চাকরি দিবে না এটা জানা সত্ত্বেও আমি প্রতিনিয়ত টাকা ছাড়া চাকরি করার জন্য লেগে আছি আমি কখন একটা টাকা ছাড়া চাকরি পাবো সেই লক্ষ্যে দিনরাত আহামরি হয়ে চাকরি খুজতেছি হয়তো আমার চাকরি পাওয়া হবে না এটা আমার মন বলছে।

দিনরাত আমার পরিশ্রম একটা চাকরি খোঁজার পিছনেই হয়ে যাচ্ছে বিগত কয়েক মাস ধরে প্রায় আমি পঞ্চাশটার মত ইন্টারভিউ দিয়েছি কিন্তু কোথাও আমার চাকরি কনফার্ম হয়নি আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার হেল্প বডি সবকিছুই একদম পারফেক্ট কিন্তু আমার চাকরি হয়নি প্রত্যেকদিন বাসায় ফিরতে হয় কালো মুখ নিয়ে গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে হয় কালো মুখ নিয়ে এ যেন আমার এক হতভাগা আমিও মাঝে মাঝে নিজের প্রতি খুব রাগ হয়।

আবার মাঝে মাঝে নিজের প্রতি নিজের অনেক বেশি রাগ জন্ম নেয় মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় নিজেকে একদম শেষ করে ফেলি আত্মহত্যার পথ বেছে নেই কিন্তু আমার বিবেক আমাকে বাধা দেয় আমি একটা শিক্ষিত ছেলে হয়ে কিভাবে এটা করতে পারি তাছাড়া আমি চলে যাওয়ার পরে হয়তো আবার এই কলঙ্ক আমার মা-বাবার কাছেই পড়বে তাদেরকেই এটা বহন করতে হবে তারা হয়তো এটা সহজেই মেনে নিতে পারবে না বিষয়গুলো ভাবতে ভাবতে আমি ঘুমিয়ে পড়ি কিন্তু এই ভাবনার শেষ আমি কোথাও খুঁজে পাইনা আমি বুঝতে পারছিনা কি করবো।

আরো পড়ুনঃ  নিজেকে স্মার্ট রাখার কয়েকটি মাধ্যম!

আর এই হতভাগ্যের মধ্যে শুধু আমি একা না আমার মত আরও হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক শিক্ষিত তরুণ তরুণ আছে যারা আমাদের এই সমাজে চাকরি পাচ্ছে না প্রত্যেকটা চাকরির জন্য মিনিমাম ‌ ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা দিতে হবে কিন্তু একটা মধ্যবিত্ত একটা নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে এই টাকা ম্যানেজ করা কতটা কঠিন হয়ে পড়ে। মেইনলি, সমাজে যারা আত্মহত্যা করে তাদের মধ্যে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী হচ্ছে শিক্ষিত তারা অনেক শিক্ষিত কিন্তু তারা সমাজে কোনটাই না পেয়ে একমাত্র আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাদের হতাশা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা তারা হতাশার মধ্যে নির্ভীক হয়ে পড়ে।

ভালোবাসার গল্পের শুরুটা কেমন ছিল?

ভালোবাসার গল্প

যাইহোক বেকার অবস্থায় ও আমার ভালোবাসার মানুষটি আমাকে ভুলে যাচ্ছেন আমাকে ছেড়ে যাচ্ছে না, যদিও আমাদের ভালোবাসাটা শুরু হয়েছিল কলেজ লাইফে। আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগের কথা আমাদের ভালোবাসা অনেক দিন টিকে আছে অনেক বিশ্বস্ত আমরা সব সময় চাই আমাদের ভালোবাসা কি সারাজীবন টিকে থাকুক। এভাবেই শুরু হয় আমাদের আস্থার বিশ্বস্ততার এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন আমাদের ভালোবাসার গল্প টি সামনের দিকে এগোতে থাকে আমাদের বিশ্বাস তো ভালোবাসার কাহিনী গুলো।

আমার অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লামিয়ার থেকে আমার মাঝে মাঝে টাকা গ্রহণ করতেই হতো না চাইলেও গ্রহণ করতে হতো কেননা ও আমার প্রচুর প্রচুর রাগ করত আমি যদি ওর দেওয়া কোন দেশ গ্রহণ না করতাম না করার জন্য আমি ওর থেকে মাঝে মাঝে গ্রহণ করতাম তবে হ্যাঁ আমি ওর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩,৬৫৫৳ নিয়েছি যা আমি সব সময় ডায়েরিতে লিখে রেখেছি হয়তো এটা একদিন পরিশোধ করার সৌভাগ্য আমার হবে এমনটা ভেবে আমি সব সময় লিখে রাখি। গার্লফ্রেন্ডের টাকায় নিজের জীবন যাপন করা আসলেই এটা কতটা অসম্মানজনক হতে পারে সেটা আমি বুঝতে পারি যদিও নামিয়ে কখনো এ বিষয়টা নিয়ে আমাকে ভাবার সুযোগ দেয় না।

লামিয়া আমাকে সুযোগ না দিলে আমি নিমিষেই ভাবতে পারি আসলে এটা আমার জন্য ঠিক হচ্ছেনা হয়তো আমি ওর টাকায় নিজের জীবনযাপন করা কিংবা নিজের চলাফেরা করা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া এটা ঠিক করছি না হয়তো এই এটা আমার ঠিক হচ্ছে না কিন্তু কি করব নিজের তো কোন চাকরি নেই বাবা এত টাকা নেই বাবার চাকরির বেতন দিয়ে কোন ভাবে সংসার চলে যাচ্ছে আমার আরো দুটো বাহির হয়েছে তাদেরকে চালাতে হচ্ছে আমি একটা শিক্ষিত সন্তান হয়েও আমার ফ্যামিলিকে কোনভাবেই আমি সাপোর্ট দিতে পারছি না এটা আমার জন্য কতটা দুঃখজনক হতে পারে আমি বুঝতে পারি।

আরো পড়ুনঃ  খুব সহজে স্মার্ট হওয়ার ৫ টি কার্যকর উপায়

আমি সবসময় বুঝতে পারি এটা আমার জন্য কতটা দুঃখ কতটা কষ্ট। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারলেও আমি কি করবো আমার তো হাত বাধা আমার পেটটা টাকা ইনকাম নেই কিন্তু চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেছে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার যে খরচ সেটাও আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে দিচ্ছে এভাবেই চলছে আমার লাইফ প্রায় এক বছর হয়ে যাচ্ছে কোনভাবে চাকরির দেখা পাচ্ছিনা চিন্তা করলাম ব্যবসা করব কিন্তু সেখানে অনেক টাকার প্রয়োজন কিভাবে ব্যবসা করবো বুঝতে পারছিনা দিনরাত ভেবে ভেবে কেমন যেন অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছি দিন দিন আমার চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে আর যেন ভেবে পাচ্ছি না মাঝে মাঝে নিজেকে শেষ করার ইচ্ছেটা নিজের মধ্যে কাজ করে কি করবো কিছুই মাথায় আসছে না কিন্তু আমি হাল ছাড়ার পাত্র না আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি হয়তোবা আমার চেষ্টার সফলতা খুব শিগগিরই আসবে সেই লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আমিও ওরকম আড্ডাবাজ ছেলে নয় যে সারাদিন আড্ডা দিব বন্ধুদের সাথে সারাদিন ঘোরাফেরা করব এরকম আড্ডা না দিয়ে ও আমি চলতে থাকে কিন্তু কি করবো কোন পথে খুঁজে পাচ্ছি না আমি সবসময় ভাল ছেলের মত নিজের মতো করে মানুষের সাথে কথা বলি ভালো হওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু একটা বেকার ছেলে মানুষের কাছে কতটা ভালো হতে পারে তা অবশ্য আপনাদের বুঝতে বাকী নেই এগুলো অবশ্যই আপনারা বুঝতে পারেন।

ভালোবাসার গল্প বেকার ছেলের বৈশিষ্ট্য!

ভালোবাসার গল্প

আসলে আমাদের সমাজে বেকার বলে কি কিছু মানুষ সবসময় বেকার তরুণদের অপমান করে থাকে এই অপমান অনেক সহ্য না করতে পারে মূলত নিজেকে ধ্বংসের দিকে নিজেকে শেষের দিকে ঠেলে দেয়। বেকার এটা আমাদের কারো ইচ্ছাকৃত বৈশিষ্ট্য না আমরা যেমন বেকার তাকে কখনো চাই না এমনি বেকার আমাদের চায়না মূলত সমাজ আমাদেরকে বেকার করে রাখে এটা আমি মনে করি।

ভালোবাসার গল্পের চরিত্র লামিয়ার যে চরিত্র রয়েছে সেরকম যদি সবার চরিত্র বাস্তবে হতো তাহলে হয়তো আমাদের মত যুবকেরা কিছুটা স্বস্তি পেতো কিছুটা ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পারতো কিন্তু না আমাদের সমাজে যারাই ভালোবাসার নামে বিভিন্ন কত প্রথম বিভিন্ন সিস্তেম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা মূলত ছেলেদেরকে ভেঙে খাচ্ছে তারা ভালোবাসার গল্পটা গল্প বানিয়ে রাখছে তারা ভালোবাসার গল্প থেকে সত্যিকার কিন্তু বাস্তবে পরিণত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না কিংবা তারা এইটাকে সুযোগ করতে চাচ্ছে না।

আমরা মানুষ যে অদ্ভুত এই এটা আমরা বুঝতে পারি কিন্তু বুঝেও আমাদের কিছুই করার থাকে না আমরা বুঝতে পারলেও কিছু করতে পারি না এটা স্বাভাবিক। লাবিয়া প্রতিনিয়ত আমাকে ভালোবাসার গল্পের মতোই ভালোবেসে যাচ্ছে কিন্তু কি করব আমি তো বেকার আমার তোর ভালোবাসার সুযোগ নাই ভালোবাসার অধিকার নাই আমি তো কখনো লামিয়াকে শপিং করে দিতে পারি না লামিয়াকে তার পছন্দের রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে পারি না কিন্তু এ বিষয়টা নিয়ে যদিও আমি আর কোন অভিযোগ নেই কিন্তু আমার মন আমাকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত খোটা দিয়ে যাচ্ছে আমি বুঝতে পারি এটা হয়তো আমার দুর্বলতা কিন্তু আমি এটা মেনে নিয়েছি মেনে নিয়েই আমি সামনের দিনগুলো ঘুম পেয়েছে আমি আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে আমি চাচ্ছি না কখনো আমার চেষ্টা ছেড়ে আমি অন্য কোথাও যাই আমি সবসময় আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং সর্বদা আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আরো পড়ুনঃ  সহজেই মেয়ে পটানোর কার্যকরী ১০ টি উপায়!

ভালবাসার গল্পে লামিয়ার বৈশিষ্ট্য!

ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার গল্পের লামিয়ার মত যদি সব মেয়েরা হতো তাহলে হয়তো সবার ভালবাসাটা পবিত্র হতে আমার ভালোবাসাটা খুব বেশি ভালো হতো কিন্তু না আমাদের মাঝে ভালোবাসার অদৃশ্য একটা পাওয়ার থাকে যা মানুষকে খুব বেশি কষ্ট। আমার বাবা একজন বিজনেসম্যান তিনি অনেক টাকার মালিক অর্থাৎ তারা খুব ধনী যদিও কলেজ লাইফে আমার এডুকেশন আমার কথাবার্তা দেখে লামিয়ার সাথে আমার রিলেশন টা হয় কিন্তু সত্যিকার অর্থে ওর সাথে আমার কখনোই যায়না আমার মতো একটা সাধারন ছেলের ছেলের সাথে আমি ভালোবাসা কখনো আমার উচিত না তাও আল্লাহর ইচ্ছায় হয়ে গিয়েছে।

ভালোবাসা হয়ে যাওয়ার মানে এই না যে লামিয়া আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না লাগিয়ে চাইনিজ আমাকে ছেড়ে যেতে পারে এই এখানে লামিয়াকে আটকানোর মতো কোন অবস্থাতেই নেই আমি নেই।

লামিয়া আমাকে প্রতিনিয়ত যেভবে সাপোর্ট করে যাচ্ছে তাতে ভালোবাসার গল্পটা পড়ে সবারই ভালো লাগবে। ভালোবাসার গল্পটা এখানেই শেষ নয় কেবল মাত্র গল্পের প্রথম পর্ব এটি এরপর এই গল্পের আরো কিছু পর্ব তৈরি হবে যেগুলো আপনারা পড়তে পারেন এবং পরিশোধ করতে পারেন।

কিন্তু আমাদের ভালোবাসা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলতেছে আর কত বছর চলবে লামিয়াকে মাসের জন্য বিয়ের চাপ দিচ্ছে যেহেতু লাভ দিয়ে তার এক বাপের এক মেয়ে তার একটা ভাই আছে কিন্তু তার বিয়ের জন্য চাপ দিবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমি আমাকে প্রতিনিয়ত বিষয়টা বললেও আমি এতটা গুরুত্ব দিয়ে দিতাম না আসলে গুরুত্ব কিভাবে দিব গুরুত্ব দেয়ার মত কোন সিস্টেম তো আমার কাছে নেই আমি একজন বেকার ছেলে হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছি।

আমি আমাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছে আমাদের ভালোবাসাটা আসলে কোন মিথ্যা ভালোবাসা না যে চাইলেই আমরা এখানে শেষ করে দিতে পারি কিন্তু আমি বিষয়টা বুঝতে পারলাম কি করবো আমি আর বাবা কখনোই চাইনা তার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *